দারুল উলুম আজাদভিলের মুহতামিম: ফিতনা প্রসঙ্গে

নিচে দক্ষিণ আফ্রিকার দারুল উলুম আজাদভিলএর মুহতামিম মাওলানা আব্দুল হামিদ ইসহাক দা.বা.-এর একটি রেকর্ডকৃত বক্তব্য দেওয়া হলো, যেখানে তিনি ফিতনা এবং এমন একটি ফিতনাকে আমরা কতটুকু সমর্থন করতে পারি তার সীমা সম্পর্কে বলেছেন।

তারিখ: আগস্ট ২০২৪

অডিও ট্রান্সক্রিপশন

[২:৩৭ থেকে] এখান থেকে এবং কুরআন শরীফের আরও অনেক আয়াত থেকেও আমরা জানতে পারি, আমরা যখনই কারও সাথে সংশ্রব রাখি, তখন আমরা সেই গুনাহের সহযোগী হয়ে যাই, এবং সেই গুনাহের সমান গুনাহ আমাদের ওপরও বর্তায়। তাই আমাদের অবশ্যই খুব সতর্ক থাকতে হবে, যেন আমরা কোনোভাবেই জড়িয়ে না পড়ি, গুনাহে নয়, বরং গুনাহগার মানুষের সাথে মেলামেশায়।

যারা গুনাহ করে, তা প্রকাশ্য কুফরি গুনাহ হলেও, আর আমাদের যদি তাদের সাথে হৃদয়ের সম্পর্ক থাকে, শরিয়ত সব সীমা দিয়ে দিয়েছে যে আমরা কতটুকু সংশ্রব রাখতে পারি এবং কী নিয়তে রাখতে পারি, কিন্তু শুধু তাদের সাথে বন্ধুত্ব করা এবং তাদের উৎসাহ দেওয়া, এটাও অনেক বড় গুনাহ, এটাও সেই গুনাহের সমান। তাই দুর্ভাগ্যক্রমে আমরা জানি যে, তাবলীগ জামাতএ এখন আমাদের দুটি দল হয়ে গেছে, আর একটি দল অক্টোবরে কোথাও তাদের ইজতেমা করছে।

সেখানে যেসব ভুল কথা বলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণরূপে শরিয়তের বিরুদ্ধে, আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে। যা বলা হয়েছে, সেসব কথা পুনরাবৃত্তি করাও এত কঠিন ও দুরূহ।

শুধু দুর্ভাগ্যক্রমে বলছি, যাতে আমরা বুঝতে পারি বহু বহু বিষয়ের গুরুত্ব কতটা গভীর।

একটি উদাহরণ হলো, যখন আল্লাহ মূসা (আঃ)-কে ডেকে তূর পর্বতে যেতে বললেন, আর তিনি যখন সেখানে গেলেন এবং তাঁর ভাই হারুন (আঃ)-কে বনি ইসরাইলের দায়িত্বে রেখে গেলেন, তখন বনি ইসরাইল বাছুরের পূজা শুরু করল এবং কুফরি করে বসল। তখন, নাউযুবিল্লাহ, বলা হয় যে, মূসা (আঃ) নাকি তাদের গুনাহর কারণ! তিনি কীভাবে চলে যেতে পারলেন এবং তাদের ছেড়ে যেতে পারলেন, তিনিই তো আসল দায়িত্বশীল ব্যক্তি ছিলেন। তিনি কীভাবে তাঁর ভাই হারুনকে দায়িত্বে রেখে যেতে পারলেন?

এখন একজন নবীর ওপর এমন দোষারোপ করা, এটা কেমন ঈমানের অবস্থা?

আরেকটি উদাহরণ, যেমন আমাদের ঈমান নবীদের ঈমানের চেয়েও বেশি শক্তিশালী, ফেরেশতাদের ঈমানের চেয়েও বেশি শক্তিশালী, আর সাহাবাদের ঈমানের চেয়েও। কোথায় আমরা, আর কোথায় সেই ঈমান?

আর এসব নিছক কথার কথা নয়, বাস্তব সত্য, এগুলো অডিওতেও আছে, যে কেউ শুনে দেখতে পারে। এর অনুবাদও মানুষ করেছে, আর আরও অনেক অনেক বিষয় আছে। আবার যেমন, শুরার পক্ষ থেকে যখন তারা তাদের জামাত পাঠায়, তখন তাদের হিদায়াত দেওয়া হয়, নির্দেশনা দেওয়া হয় যে গিয়ে কী নিয়ে কথা বলতে হবে, তাদের ছয় পয়েন্টের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, ইত্যাদি। ঠিক একইভাবে, ওই দিক থেকে যারা আসে, তাদেরও এভাবেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আর তারাও এসব ভুল বিষয় প্রচার করে।

তাই আমরা যদি যেকোনোভাবে তাদের সাথে সংশ্রব রাখি, তাদের সেই জামাতের মেজবানি করি, তাদের সাথে যোগ দিই, সেখানে যাই, তাহলে আমরাও সমানভাবে সেসবের সাথে একাত্ম হয়ে যাব। তাই আল্লাহ যেন আমাদের এটা বোঝার তৌফিক দেন, আর এটা আমাদের ঈমানের বিষয়। আমাদের অনেকের মনে হয় যে, ঐক্য ও শান্তি রক্ষা করতে হবে। কিন্তু ঐক্য ও শান্তি কখনোই বাতিল ও মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। ঐক্য ও শান্তি কেবল হকের ওপর, সত্যের ওপরই প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

তাই আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে, আমরা যাকে যাকে চিনি তাদেরও এ বিষয়ে সতর্ক করে দিতে হবে। আর এসব নিছক শোনা কথা নয়, এগুলো শতভাগ প্রমাণিত, প্রকৃত প্রমাণ। আর এসব কথা কখন বলা হয়েছিল, কোথায় বলা হয়েছিল, এবং প্রকৃত কথাগুলো কী ছিল, প্রকৃত অডিওও বিদ্যমান আছে, আর বিষয়টির গুরুত্বও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে রক্ষা করেন, ইনশাআল্লাহ। এর মধ্যেও, জামাতের এই অন্য দলটি যেসব ভুল বিষয় শিক্ষা দেয় তার একটি হলো, দ্বীনের মেহনত ইবাদতের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর ইবাদতের চেয়েও। মেহনত তো কীসের জন্য? আমাদের জীবনে দ্বীন নিয়ে আসার জন্য, আমাদের জীবনে ইবাদত নিয়ে আসার জন্যই তো। মাধ্যম কখনোই লক্ষ্যের চেয়ে, উদ্দেশ্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হতে পারে না। আমরা যা কিছু করছি, তা তো এই জন্যই করছি। আর মাধ্যমও প্রয়োজনীয়। তারও মূল্য আছে।

কিন্তু সেটাই লক্ষ্য নয়। সেটাই উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য হলো আমাদের জীবনে দ্বীন আসা। তাই এসব বিষয়ে আসুন আমরা নিজেদের যাচাই করি।